বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ৭ নম্বর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ”সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ¦ালানী” নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগি সংস্থাও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনডিপিও সিরাজগঞ্জে এনার্জি এন্ড এনভায়রণমেন্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্ট কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কম্পোনেন্ট যেমন বায়োগ্যাস, সোলার, রিটেইন্ড হিট কুকার, উন্নত চুল্ াইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে বায়োগ্যাস একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। বায়োগ্যাস প্রাকৃতিক গ্যাসের মতই। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া জ¦ালানী খরচেও সাশ্রয়ী। তাই ইডকলের সহায়তায় পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে ও গ্রামীন মানুষের জীবনকে সহজ করতে এনডিপি সিরাজগঞ্জে বায়োগ্যাস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত ছোট বড় মোট ২৮৩টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোতে ৩৬ হাজার টাকা থেকে ৬১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে। বায়োগ্যাস কার্যক্রমটির প্রচারণা বাড়াতে কর্মসূচি থেকে ৫ হাজার টাকা সাবসিডি প্রদান করা হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন খুব সোজা। যেকোন পচনশীল জৈব পদার্থ যেমন গরুর গোবর, হাঁস মুরগীর বিষ্ঠা, শহরের আবর্জনা, কচুরিপানা ইত্যাদি বায়ুশুন্য অবস্থায় রেখে বায়োগ্যাস প্রস্তুত করা হয়। এতে কোন দুর্গন্ধ নাই, ধোয়া হয় না। এক ঘনমিটার বায়োগ্যাস (৬০% মিথেন) বা ৭৬ লিটার কেরোসিন বা ৫.২ কিলোওয়াট ঘন্টা বিদ্যুৎ বা ৪.৫ কেজি লাকরি অথবা ৮.৬ কেজি খড়কুটো এর সম পরিমান তাপ উৎপন্ন করে। এছাড়া বাতি জ¦ালানোর ক্ষেত্রে তেলের পরিবর্তে বায়োগ্যাস ব্যবহার করা যায়। জেনারেটর চালাতেও বায়োগ্যাস ব্যবহার করা হয়। আবার জেনারেটর ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করা যায়। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে প্রাপ্ত ¯øারী কৃষি জমিতে সার, পুকুরে মাছের খাবার, কম্পোষ্ট সার ও ভার্মি কম্পোষ্ট তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই বায়োগ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃত্রিম জ¦ালানির সংকট উত্তোরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি ছোট ফ্যামিলি সাইজ বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে বছরে প্রায় ৩.৫ টন জ¦ালানী কাঠ বা ১ টন কয়লার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাড়ির ভিতর বা বাইরের পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে এটা সহায়তা করে। এটা ধোয় বিহীন হওয়ায় সৃষ্ট রোগ যেমন চোখের জ¦ালা পোড়া , শ^াসজনিত রোগ, বমিভাব, মাথা ঘোরানো প্রভৃতি থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে। বায়োগ্যাসে দ্রæত রান্না হয়। হাড়ি পাতিলে কালি পড়ে না। রান্নাঘর থাকে ধোয়ামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন। ফসলি জমিতে ১০০০ কেজি গোবরের বায়ো¯øারী ব্যবহার করলে ১০ কেজি ইউরিয়া , ৮ কেজি ফসফেট, ১০ কেজি পটাশ কম ব্যবহার করলেও চলবে। অন্যদিকে প্রতি ১০০০ কেজি মুরগীর বায়ো¯øারী ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫২ কেজি ফসফেট এবং ১৪ কেজি পটাশের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। জ¦ালানী কাঠের ব্যবহার হ্রাসের কারণে গাছপালা নিধনের হারও হ্রাস পায়। ভূমি ক্ষয়, প্লাবন ও ভূমি ধসও নিয়ন্ত্রিত হয়।